গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তরে স্থাপত্যবিদ-বিশেষজ্ঞদের নিয়ে কমিটি শিগগির: নাহিদ

৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৪ ১৬:১৫  

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতদের পরিবারদের চলতি মাসেই স্মরণসভার আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। একইসঙ্গে ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচারী ও খুনি রাষ্ট্রনায়কদের পরিণতি কেমন হয়, তার নিদর্শন বিশ্বের বুকে রাখার জন্যই গণভবনকে জাদুঘর করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

তিনি বলেছেন, এ জন্য স্থাপত্যবিদ ও জাদুঘর বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আগামীকাল রবিবারের মধ্যেই কমিটি করা হতে পারে। এরপর দ্রুতই তা জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।  

শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে গণভবন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য দেন তিনি।এসময় শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান ও যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদও উপস্থিত ছিলেন।

গণভবনের গেটে উপদেষ্টাদের কাছে গণঅভ্যুত্থানে নিহত-আহতদের তালিকার বিষয়ে জানতে চান সাংবাদিকরা।  

জবাবে নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা শহীদদের একটি তালিকা করেছি, সেই তালিকা শেষের দিকে। এই শহীদ পরিবারদের নিয়ে আমরা এই মাসেই বড় করে একটি স্মরণসভার আয়োজন করব। সেখানে আমাদের যে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম চলছে সেটির ঘোষণা হবে। এবং আমাদের আহত ও শহীদদের ব্যাপার আর্থিক ও অন্যান্য যেসব প্রতিশ্রুতি রয়েছে সেগুলো সেখান থেকে দেওয়া হবে এবং তালিকাও সেখানে ঘোষণা করা হবে।

গণভবনকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘর’- এ রূপান্তর করা হবে জানিয়ে তিনি জানান, সেই কারণে তারা গণভবন পরিদর্শনে এসেছেন।

গণভবন পরিদর্শন করে কী দেখলেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন আমরা ভেতরে প্রচুর দেওয়াল লিখন, গ্রাফিতি দেখেছি। লুটপাট হওয়া অনেক আসবাবপত্র আবার মানুষ রেখে গেছেন, সেগুলোও সংরক্ষিত রয়েছে। মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে চারদিকে ভাঙচুর অবস্থা রয়েছে। আমরা চেষ্টা করবো এই ক্ষোভগুলোকে যথাসম্ভব ইনটেক রেখেই জাদুঘর করার।

উপদেষ্টা জানান, মন্ত্রিপরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্রুততম সময়ে গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘরের রূপান্তর করা হবে। এ জাদুঘরে ১৬ বছরের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গণঅভ্যুত্থানের ৩৬ দিনের ঘটনা, শহীদদের তালিকা, স্মৃতি এসব কিছুর একটি সামগ্রিক উপস্থাপনা থাকবে। পাশাপাশি কিছু ডিজিটাল উপস্থাপনা থাকবে।

সাম্প্রতিক সময়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সরকার কী ব্যবস্থা নিচ্ছে জানতে চাইলে শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, এই ধরনের ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য উদ্যোগ নিচ্ছি এবং বারে বারে আমরা এই ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কাজ করার জন্য বলছি। আমরা প্রথম দিন থেকে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। আমরা বারে বারে বলেছি, আমাদের প্রতি যে আচরণ করা হয়েছিল ফ্যাসিবাদী শাসনের পক্ষ থেকে, সেই ধরনের আচরণ যেন কারো প্রতি না হয়, সেটাই নিশ্চিত করছি।